Saturday, May 30, 2026

 


ভাষার মৃত্যু ঘটে চোখের পলকে

পেগি মোহন





তখন ১৯৭৮ সাল। আমি সে সময়ে ত্রিনিদাদ ভোজপুরি ভাষা নিয়ে একটা গবেষণা প্রকল্পে হাত দিয়েছিলাম। ত্রিনিদাদ ভোজপুরি হল আমার নিজেদের জাতের ভাষা। আমার উদ্দেশ্য ছিল ভাষামৃত্যুর প্রক্রিয়াটাকে বোঝা। আমার এমন একটা ধারণা ছিল যে আমি হয়তো একটা ধীর মসৃণ বিলুপ্তির ঢাল দেখতে পাব, ঠিক যে-ধারায় লোকেরা ধীরে ধীরে তাদের ভাষা ‘ভুলে’ যায়। বিভিন্ন মানুষের মুখ থেকে রেকর্ড করা লম্বা লম্বা বয়ান ব্যবহার করে আমি একটা পদ্ধতি তৈরি করে নিয়েছিলাম, যা থেকে গণনা করা যায় যে, বক্তারা কতবার এমন বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করছেন যা ত্রিনিদাদ ভোজপুরিতে আছে কিন্তু ক্রেওল বা ইংরেজিতে নেই। পরে এই সমস্ত সংখ্যাকে একত্র করে আমি পেতাম একটা সংখ্যা, যার নাম আমি দিয়েছিলাম ‘কমপিটেন্স স্কোর’।

কিন্তু ঘটনা হল, আমার আগের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে এই সংখ্যাগুলো থেকে কিন্তু কোনো ধীর, ধারাবাহিক পতনের ছবি বেরিয়ে এল না। দুটো আলাদা গুচ্ছে সেগুলো ভাগ হয়ে রইল: দেখা গেল বয়োজ্যেষ্ঠ বক্তারা প্রায় সমান দক্ষ (এবং মনে হয়েছিল তাঁরা নির্ভেজাল ওই ভাষার মানুষ)—অন্যদিকে তরুণদের কথাবার্তা ছিল শ্লথ, ব্যাকরণের ভুলে ভরা, এবং তেমন কোনো ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্য তাঁদের কথায় কমই দেখা যেত যেগুলোর কোনো সমতুল শব্দ ক্রেওল বা ইংরেজিতে নেই। আর একটা কথা, এই তরুণদের ওই বয়ঃগোষ্ঠীর সাধারণ প্রতিনিধি হিসেবেও ভাবা যাবে না। তারা কেবল আমার খুঁজে পাওয়া সেই অল্প কয়েকজন তরুণ, যারা অন্তত ভাষাটা বলতে পারে। ব্যাপারটা তাহলে কী হচ্ছে এখানে?

ঠিক এই সময় নাগাদ হঠাৎই আমার চোখে পড়ল হার্ভার্ডের ইভলিউশনারি বায়োলজিস্ট স্টিফেন জে. গুল্ডকে নিয়ে লেখা একটা প্রবন্ধ, যিনি ‘পাংচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়া’‑র কথা বলেছিলেন। আমি তাঁকে লিখলাম, আর তিনি তৎক্ষণাৎ তার উত্তর তো দিলেনই, সঙ্গে পাঠালেন একগুচ্ছ প্রবন্ধ, সেগুলোর মধ্যে কয়েকটাতে তাঁর সহলেখক ছিলেন নাইলস এলড্রেজ, আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্টরির অমেরুদণ্ডী প্রাণী বিভাগের কিউরেটর। জীবাশ্মগুলোর নমুনায় কেন ‘মিসিং লিঙ্ক’—অর্থাৎ মধ্যবর্তী ধাপগুলো—প্রায়ই গরহাজির থাকে, এই প্রশ্নের উত্তরে এলড্রেজ ও গুল্ড বিবর্তনীয় পরিবর্তনের গতি‑প্রকৃতিকে নতুনভাবে কল্পনা করেছিলেন। তাঁদের মতে, বিবর্তন কোনো মসৃণ ঢাল বরাবর এগোয় না; বরং এটা হল দীর্ঘকাল ধরে একটা সুস্থায়ী অবস্থা, যেখানে প্রজাতিগুলো স্থিতিশীল পরিবেশে মানিয়ে থাকে, কিন্তু সেই দীর্ঘ নীরবতার মাঝে হঠাৎই ইকোলজিক্যাল অভিঘাতের কারণে জন্ম নেয় এলোমেলো পরিবর্তনের ক্ষণিক ঝড়—তখন নতুন প্রজাতির আবির্ভাব ঘটে, আর কিছু পুরোনো প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এই মডেল অনুযায়ী প্রজাতির পতন কোনো ধীর ক্ষয় নয়, যেমন হতে পারত তাদের ভেতরে কিছু গণ্ডগোল দেখা দিলে। বরং তাদের বিলুপ্তি ঘটে বিলকুল সুস্থ অবস্থাতেই— পরিবেশ এমন দ্রুত ও এমন তীব্রভাবে বদলে যায় যে তারা আর মানিয়ে নিতে পারে না।

শেষ ডোডো পাখিটির ক্লান্ত চোখদুটি যেদিন বুজে এসেছিল সেদিন তার জায়গায় কোনো তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাও ছিল না—কারণ তার সব ডিম খেয়ে ফেলেছিল এক নতুন শিকারি প্রজাতি: নাবিকদের বড় বড় জাহাজে চেপে মরিশাসে এসে পৌঁছনো ইঁদুরের দল।

পিজিন ভাষাগুলো যেমন যেমন আঞ্চলিক মানুষের ঠোঁটে আসতে শুরু করে, সেই অনুসারে মাত্র একটা প্রজন্মের ভেতরেই ক্রেওল ভাষাগুলো গজিয়ে ওঠে। অর্থাৎ ভাষার বেলাতেও একই ঘটনা ঘটে। যদি পরবর্তী প্রজন্মের মাতৃভাষা ব্যবহারকারীরা আর তা ব্যবহার না করে, তবে ভাষাটিও এক প্রজন্মেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। ভাষার প্রাণশক্তি আসলে মাতৃভাষায় কথা-বলা মানুষদের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িত এটা মনে রাখলে হঠাৎই বিদ্যুচ্চমকের মতো ধরা পড়ে, ‘জীবন্ত ভাষা’ আর ‘মৃতপ্রায় ভাষা’—এই শব্দগুলো আর নিছক রূপক নয়। কোনো প্রজন্মে যেই কোনো একটা ভাষায় কথা-বলতে প্রস্তুত মানুষের আবির্ভাব হয়, অমনি সেই ভাষা পায় স্ফুলিঙ্গের স্পর্শ, তার জীবনচক্র শুরু হয়, এবং আমাদের প্রিয় শিশুটির মতোই সেই ভাষা তখন নিজের পথ ধরে হাঁটতে শুরু করে, নিজের স্বভাবে বেড়ে ওঠে, সরাসরি পিতামাতার নিয়ন্ত্রণ আর কাজ করে না।

আর কোনো ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে ঠোঁটে নেওয়ার মতো প্রজন্মটি যখন আর থাকে না—কারণ তরুণেরা তাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছে, তখন সে ভাষার মৃত্যু হয়।

অধিকাংশ ভাষা যাদের সঙ্গে এই জীবনদায়ী শক্তির বিচ্ছেদ ঘটে গেছে, সেগুলি নিঃশব্দে মিলিয়ে যায়, জীর্ণ হয়। তবুও কখনও‑সখনও— যেমন ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন বা মাও জে দং‑এর দেহাবশেষের মতো আমরা সেগুলিকে যত্নে সংরক্ষণ করি নিজেদের অনুপ্রাণিত করার জন্য, যদিও মনে‑মনে জানি, তাঁরা আর নেই, তাঁরা আর উঠে দাঁড়িয়ে আমাদের নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।

এর অর্থ হল, কেবল কোনো ভাষার বাহ্যিক রূপ বদলানোটাই ভাষামৃত্যু নয়। ‘মৃত্যু’ শব্দটি ইঙ্গিত করে প্রাণশক্তির ক্ষয়—সেই প্রাণশক্তি, যা একসময় ওই ভাষাটি পেত তার মাতৃভাষী (native speaker) বক্তাদের কাছ থেকে। মাতৃভাষী বলতে আমরা বুঝি সেই মানুষকে, যে ওই ভাষাটিই প্রথম শিখেছে—শৈশবে, পাঁচ বছর বয়সের আগেই।

শৈশব থেকে না শিখেও কোনো ভাষা খুব ভালোভাবে বলা যায়—আমাদের অনেকেই এখানে ইংরেজিতে দক্ষ দ্বিতীয়‑ভাষী বক্তা (second-language speaker)। কিন্তু তবুও একটি পার্থক্য থাকে। দ্বিতীয়‑ভাষী বক্তারা কথায় ‘ভুল’ করছেন— এরকম আমরা বলি যখন প্রকৃত মাতৃভাষীদের ভাষা ব্যবহার থেকে তাঁদের ভাষা ব্যবহার একটু সরে আসে। অথচ আমরা কিন্তু সেই ভুলগুলোকে ওই ভাষাটির রূপান্তরের প্রমাণ হিসেবে পড়ি না। কাজেই, মাতৃভাষী বক্তা এবং তাঁদের ভাষা ব্যবহার— সেটাই হল ভাষার চূড়ান্ত মানদণ্ড, ভাষাটি আসলে কী, তার কষ্টিপাথর। এই অর্থে ভাবলে, কেউ যদি পাঁচ বছর বয়সের অনেক পরে সংস্কৃত শিখে থাকে, তাহলে সে ওই ভাষায় যতই দক্ষ বা সাবলীল হোক, সংস্কৃত তার মাতৃভাষা নয়—কারণ তার আগে অবশ্যই অন্য কোনো ভাষা সে প্রথমে শিখেছিল।

আর এক ধাপ এগিয়ে বলা যায়— যে-ভাষায়, শৈশবের অস্ফুট বুলির দিনগুলো থেকে সেটি ব্যবহার করছে এমন কোনো বক্তাই আর নেই,  সেই ভাষা আক্ষরিক অর্থে মৃত। সে কারণেই অমন ভাষাকে ‘সংরক্ষণ’-এর কথা ওঠে। সে ভাষাগুলোকে আমরা নিজের মতো বেড়ে ওঠার সুযোগ দিই না আর, কারণ তারা যে নিজে নিজেই মানিয়ে নিয়ে বিকশিত হতে পারবে এমন কোনো ভরসা আর অবশিষ্ট থাকে না। কারণ আমাদের হাতে যা আছে সেটা… কেবল মৃতদেহ বই আর কী!

ভাষার ক্ষেত্রে ‘পাংচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়া’ মডেলটা প্রয়োগ করা মানে তাকে একেবারেই ভিন্ন ধরনের এক পরিসরে স্থাপন করা। ভাষার মৃত্যু তখন আর এমন কিছু থাকে না যেটা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা উপায়ে ঘটা সম্ভব— যেমন ঘটে আলাদা আলাদা ভাবে এক-একটা জীবের মৃত্যুতে। কোনো ভাষার সূচনাকেও আর ধীরে‑ধীরে ঘটে যাওয়া কোনো প্রক্রিয়া হিসেবে ভাবা যায় না, যেখানে এক ভাষার শব্দ ও ব্যাকরণ ধীরে ধীরে চুঁইয়ে মেশে আরেক ভাষায়। আজ আমরা যে জগতে আছি সেখানে রয়েছে পরিবেশ বা অর্থনীতির মতো এক-একটা বৃহদাকার সক্রিয় সচল সত্তা—এদের আচরণে যুগের পর যুগ হয়তো বিশেষ কোনো অভিঘাতের ছাপ পড়ে না, তারপর আচমকাই ঘটে যায় নাটকীয় পরিবর্তন। এখানে ভাষামৃত্যুর উপমা আর সেই ধীরসঞ্চার কোমল মৃত্যু নয়— যেমনটা আমাদের নিজেদের বেলায় আমরা সকলেই আশা করি, অসুস্থ থাকার একটা পর্ব পেরনোকেও হয়তো স্বীকার করে নিই। বরং এর তুলনা চলবে প্রজাতি‑বিলুপ্তির সঙ্গে। এবং এর বিপরীত বিন্দুতেও নেই অপর কোনো ব্যক্তির জন্ম, বরং আছে এক নতুন প্রজাতির উদ্ভব। প্রজাতি‑উদ্ভব ও বিলুপ্তি—উভয়ই কোনো-না কোনো বিশেষ ঘটনানির্ভর, এবং তা আচমকাই ঘটে যায়; অনেক সময় মাত্র এক প্রজন্মেই সেটা ঘটে, এক দীর্ঘ পর্ব জুড়ে স্থিতিশীল পরিবেশের মাঝে ছেদ টানে অতর্কিতে।

কোনো প্রজাতি অসুস্থ বা অযোগ্য বলে, বা তার জীবনের নির্দিষ্ট সময়সীমা পূর্ণ হয়েছে বলেই, তার বিলুপ্তি ঘটে না। এটি ঘটে কারণ পরিবেশ এত দ্রুত ও এত তীব্রভাবে বদলে যায় যে প্রজাতিটি আর মানিয়ে নিতে পারে না। এর সঙ্গে তুলনীয় অবস্থাটা হল যেখানে কোনো বিশেষ ভাষাভাষী মানুষ এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখছে তাদের ভূমিটি আগ্রাসী বহিরাগতদের হাতে দখল হয়ে গেছে; এটাই এই ধরনের পরিবর্তনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

পাংচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়া‑র দৃষ্টিতে মিশ্র ভাষার আবির্ভাব ঘটে বিবর্তনের বিশাল সময়স্রোতে এক ঝলক বিদ্যুতের মতো—যেমন ক্যারিবিয়ানে ক্রেওল ভাষাগুলো হঠাৎই প্রাণ পেয়েছিল। (...)

~

(...) কয়েক বছর আগে, জানুয়ারির বরফ-ঢাকা পথে আমি হাঁটছিলাম লাটভিয়ার রাজধানী রিগার ঠিক বাইরে অবস্থিত মিউজিয়াম রিজার্ভ-এর ভেতর দিয়ে। জাদুঘরটা এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানেই একসময় ছিল লিভ-এর কাঠের দুর্গ, সেখানে বাস করত ‘লিভোনিয়ান ব্রাদার্স অফ দ্য সোর্ড’। লিভোনিয়ান হল লাটভিয়ায় একদা প্রচলিত এক ভাষার নাম—আত্মীয়তার বিচারে সেটা লাটভিয়ানের মতো ইন্দো‑ইউরোপীয় নয়, বরং ফিনো‑উগ্রিক পরিবারের, ফিনিশ ও এস্তোনিয়ানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য ছিল। দেখলাম, জাদুঘরের একটি ফলকে লেখা আছে শেষ যে-মানুষটির 
জিহ্বায় মাতৃভাষা ছিল লিভোনিয়ান, তিনি ২০১৩ সালের ২ জুন
, ১০৩ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।

এক বৃদ্ধা মারা গেলেন, আর একটি ভাষা হারিয়ে গেল। কিন্তু লিভোনিয়ান জনগণ তো বিলুপ্ত হয়নি। তারা বেঁচে রইল আজকের লাটভিয়ান ভাষাভাষী মানুষ হয়ে। পুরোনো ভাষার চিহ্ন আজও টিকে আছে কিছু শব্দে, আর আছে সেই দ্বিমুখী বিবাদী স্বরভঙ্গি (two-way contrastive tone, চীনা ভাষার মতো) যা লাটভিয়ানকে আলাদা করে লিথুয়ানিয়ান ও আশপাশের স্লাভিক ভাষা থেকে, সেগুলো এরকম স্বরভঙ্গি‑ভিত্তিক ভাষা (tone language) নয়।

আমি যেন চোখের সামনে দেখতে পাই ঘটনাটা কীভাবে ঘটেছিল: একদল পুরুষ এসে পৌঁছল ইন্দো‑ইউরোপীয় ভাষা নিয়ে—যেমনটা ঘটেছিল বৈদিক ভারতে—স্থানীয় পুরুষদের একাংশকে নিকেশ করে স্থানীয় নারীদের সঙ্গে তারা পরিবার গড়ল। তাদের সন্তানদের ‘মাতৃভাষা’ ছিল লিভোনিয়ান, কিন্তু নতুন ক্ষমতাধর শ্রেণির ভাষার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টায় জন্ম নিল লাটভিয়ান—সে ভাষার ‘মাতৃকুলের’ দিকটা যেন ইতিহাসের বিচারে আর ধর্তব্যই রইল না। অপর দিকে, দরিদ্রতর মানুষরা রয়ে গেল সীমাপ্রাচীরের ওপরে— বহু শতাব্দী ধরে পুরোনো ভাষাটিই বলে চলল, কিন্তু দেখল তার গুরুত্ব ক্রমশ কমে যাচ্ছে। অবশেষে তারাও নতুন ভাষা, লাটভিয়ান, গ্রহণ করল—পরিবর্তনশীল ভূমিতে নিজেদের সন্তানদের জন্য ভালো সুযোগের আশায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, লাটভিয়ানরাই লিভোনিয়ান—যেমন আমরাও আমাদের সমগ্র ইতিহাসের সমষ্টি, কেবলমাত্র পিতৃকুলের কোনো এক শক্তিশালী পূর্বপুরুষের নাম বহন করা উত্তরসূরি নয়।

 

 

[রচনাটি Peggy Mohan-এর লেখা Wanderers, Kings, Merchants: The story of India through its languages (পেঙ্গুইন-ভাইকিং, ২০২১) বইয়ের  The hidden story of Sanskrit অধ্যায়ের কিছু নির্বাচিত অংশের অনুবাদ। মূল অধ্যায়টির বিষয় সংস্কৃত ভাষায় দ্রাবিড় উচ্চারণের প্রভাব।

পেগি মোহন একজন ভাষাতত্ত্ববিদ। তাঁর জন্ম ওয়েস্ট ইন্ডিজের ত্রিনিদাদ-টোবাগো-য়। দিল্লি ইউনিভার্সিটিতে লিঙ্গুইস্টিকস পড়িয়েছেন।  বর্তমানে অশোকা ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর।]

 


Friday, May 22, 2026

গ্রেট নিকোবর প্রোজেক্ট: রাষ্ট্রীয় উচ্চাশা, নাকি মহার্ঘ ভুল

 


গ্রেট নিকোবর প্রোজেক্ট: রাষ্ট্রীয় উচ্চাশা, নাকি মহার্ঘ ভুল

কল্যাণ রায়





আজ প্রায় এক দশক হল নরেন্দ্র মোদী সরকার গ্রেট নিকোবর দ্বীপ (জিএনআই) প্রকল্পকে একটি বৃহৎ বিনিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে, বলা হচ্ছে এটি ভারতকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহন ব্যবসায় একটি প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। প্রকল্পটিতে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর নির্মাণের কথা বলা হয়েছে, যেটা নাকি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে এবং এই ক্ষুদ্র দ্বীপটিতে পর্যটক টেনে আনবে।

উল্লেখ করা দরকার, কেন্দ্রীয় সরকার ও নীতি আয়োগের পেশ করা কোনো পরিকল্পনা নথিতেই এর পিছনে আরক্ষা সংক্রান্ত কোনো কৌশলী পদক্ষেপের ইঙ্গিত নেই।

অথচ এই পরিকল্পনা ঘিরে সমালোচনা যেই বাড়তে শুরু করল অমনি শুরু হল জিএনআই প্রকল্পের গুরুত্ব নিয়ে একটি নতুন ভাষ্য তৈরির চেষ্টা। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে— যেখানে চীন হল অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি, এর সামরিক গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে এখন। এই ধরনের ভাষ্যে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরটিকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গৌণ বিষয় হিসেবে ধরা হচ্ছে এবং আলোচনায় এটাও কখনও আসছে না যে গুরুত্বপূর্ণ মালাক্কা প্রণালী ও সিক্স ডিগ্রি চ্যানেলে নজরদারির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অন্য কোনো সামরিক বিকল্প খুঁজে দেখেছে কিনা।

ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হল একটি সামুদ্রিক ট্রানজিট কেন্দ্র যেখানে বড় সমুদ্রগামী জাহাজ (মাদার শিপ) থেকে কার্গো কন্টেনার খালাস করে ছোট জাহাজ (ফিডার শিপ)-এ তোলা হয় তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য। আবার উল্টো পথেও একই ভাবে কাজটি হয়। যেহেতু অতি-বৃহৎ কন্টেনার জাহাজগুলি ভেড়ার জন্য অনেক বেশি গভীরতার জল এবং বিস্তৃত বন্দর পরিকাঠামোর প্রয়োজন, তাই সেগুলো ছোট আঞ্চলিক বন্দরের পরিবর্তে শুধুমাত্র বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঞ্চলে অবস্থিত হাব বন্দরেই নোঙর করতে পারে, এবং তাদের সংখ্যাও সীমিত।

ঐতিহাসিকভাবে, দেশের অধিকাংশ ট্রান্সশিপমেন্ট কার্গো কলম্বো (শ্রীলঙ্কা), সিঙ্গাপুর, দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরশাহি) এবং পোর্ট ক্লাং (মালয়েশিয়া)-এর মতো বিদেশি হাবের মাধ্যমে চলাচল করে।

 

জিএনআই-তে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরটির প্রস্তাব করা হয়েছিল উপকূলের কাছাকাছি ১০-১৫ মিটার প্রাকৃতিক জলের গভীরতার কারণে, যা অতি-বৃহৎ কন্টেনার জাহাজগুলির পক্ষে সুবিধাজনক, এবং আরও এক কারণ, পূর্ব-পশ্চিম আন্তর্জাতিক শিপিং করিডোরটিও রয়েছে এর কাছাকাছি। উদ্দেশ্য ছিল এমন একটা কার্গো হাব তৈরি করা হবে যা বর্তমানে যেসব ট্রাফিক শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে, সেগুলোকে আকর্ষণ করবে।

হাবটিকে সক্রিয় রাখার জন্য আরও যা যা জরুরি— একটি বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, টাউনশিপ, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুবিধা ইত্যাদি সবই এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। একমাত্র সামরিক উপাদান ছিল এখানকার বিমানবন্দরটি, যেটিকে দুই কাজেই ব্যবহার করা যাবে বলে ধরা হয়েছিল।

 

কোনো বিকল্প চিন্তাভাবনার অবকাশ মেলেনি কি?

 

গ্রেট নিকোবর দ্বীপের স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না, কিন্তু যে-প্রশ্নটির উত্তর মিলছে না তা হল: জিএনআই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে মোদী সরকার কি এর বিকল্প কী হতে পারে তা নিয়ে যথাযথ বিবেচনা করেছিল?

অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল সুধীর পিল্লাই, ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন ফ্ল্যাগ অফিসার, পরিস্থিতিটি বিশ্লেষণ করার সময় প্রশ্ন তুলেছেন, গালাথিয়া বে, ক্যাম্পবেল বে, নানকৌরি হার্বার এবং ক্যাম্পবেল বে–সাবাং-এর মধ্যে ভাগ ভাগ করে নির্মাণের মডেল—এই বিকল্পগুলোর তুলনামূলক মূল্যায়ন আদৌ করা হয়েছিল কি? তাছাড়া ভিজিঞ্জাম, বাধবন, মাতারবাড়ি, পাটিম্বান ও তোয়াস বন্দর ইত্যাদি বন্দর যেগুলি জিএনআই-এর আঞ্চলিক প্রতিযোগী, তাদের পাশে বাণিজ্যিক লাভযোগ্যতার নিরিখে এই প্রকল্পটি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে সেটাও কি খুঁজে দেখা হয়েছে?

তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন যে সামরিক উপযোগিতা বিচারের সময় কি দ্বিমুখী ব্যবহারযোগ্য বিমানঘাঁটি এবং পোক্ত নৌ-ঘাঁটি গড়ার কাজে যা দরকার তার সঙ্গে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টিইইউ (TEU, টোয়েন্টি ফিট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট’, কন্টেনার কার্গোর আয়তনের একক) কমার্শিয়াল মেগা-হাব গড়ার কাজে যা দরকার তার তুলনামূলক বিচার করা হয়েছিল? এ ছাড়াও, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন ২০৫০ সালের মধ্যে শিপিংয়ের জন্য যে নেট-জিরো কার্বন নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে সেটা পূরণের জন্য জিএনআই প্রকল্প কি ‘গ্রিন বাংকারিং’ স্ট্র্যাটেজি (কয়লা-তেল ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে গৃহীত ব্যবস্থাপনা) আয়ত্ত করেছে? সেটা না করা হলে পূর্ণ কার্যক্ষমতায় পৌঁছনোর পর বন্দরটির পক্ষে গ্রাহকদের আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ ধরনের কোনো বিশ্লেষণই প্রকল্প সংক্রান্ত এবং জনসাধারণের কাছে সুলভ কোনো নথিতে সুসংহত আকারে পাওয়া যাবে না। পাবলিক রেকর্ড বলতে যা আছে তা পড়ে এমন মনে হয় না যে বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে একটা উপসংহারে পৌঁছানো হল, বরং তা আরও বেশি করে একটি নির্ধারিত সিদ্ধান্তের কথা বলে, যাকে ঘিরে ধাপে ধাপে প্রথামাফিক চাহিদা মেটানোর জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু বিশ্লেষণ সাজানো হয়,” লিখেছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল পিল্লাই।

যেদিন থেকে প্রকল্পটি গতি পেয়েছে, সেই দিন থেকেই পরিবেশবাদীরা, নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত অ্যাকটিভিস্টরা এবং বিরোধী দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে পরিবেশ, বন ও বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত ছাড়পত্র আদায়ের বিধিবদ্ধ নিয়ম লঙ্ঘনের এবং বন অধিকার আইন, ২০০৬-এর বিধান মেনে না চলার অভিযোগ আনতে শুরু করেছে।

সপ্তাহ তিনেক আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গ্রেট নিকোবর দ্বীপ পরিদর্শন করে এসেছেন এবং সেখানে তিনি নিকোবরী প্রতিনিধি ও অ্যাকটিভিস্টদের সঙ্গে দেখা করেন। এঁরা বাস্তুচ্যুতি, পরিবেশ বিনাশ এবং আদিবাসী উপজাতীয় সম্প্রদায়গুলির (বিশেষ করে শোম্পেন উপজাতির) ওপর এই প্রকল্পের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এর পরেই এই বিরোধী দলটি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ তীব্রতর করে তোলে। তাঁরা প্রকল্পটিকে “পরিবেশের দিক থেকে দুর্যোগপূর্ণ” এবং “কৌশলগতভাবে অস্বচ্ছ” উদ্যোগ বলে অভিহিত করেছেন, তাঁদের মতে যথাযথ বিবেচনা বা ঝুঁকি সামলানোর ব্যবস্থা ছাড়াই এটিকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দুটি পৃথক চিঠিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের দিকে আঙুল তুলেছেন।

যেসব সমীক্ষার ভিত্তিতে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, সেগুলো এমনকী ‘র‍্যাপিড ইআইএ’ (এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট)-ও নয়, এবং মাত্রই সামান্য কয়েকটা দিন ও সপ্তাহের মধ্যে সংগ্রহ করা প্রারম্ভিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং একেবারে অপর্যাপ্ত। এই প্রতিবেদনগুলো যেমন বিজ্ঞানের দিক থেকে অপমানকর তেমনই ইআইএ প্রক্রিয়াটাকেই এগুলো উপহাস করছে,” রমেশ লিখেছেন।

 

বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা

 

সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট এই মাসের শুরুর দিকে তিনটি পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন শুনতে সম্মত হয়েছিল, এই অভিযোগগুলোতে বলা হয়েছিল যে ছাড়পত্র দেওয়ার ফলে উপজাতিদের অরণ্যের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। সরকারের আপত্তি খারিজ করে হাইকোর্ট উল্লেখ করে যে এই ধরনের প্রকল্পগুলি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আওতায় আসতেই পারে কারণ নিকোবরের উপজাতীয় জনসমষ্টিটি একটি “অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপজাতীয় গোষ্ঠী”।

কেন্দ্রীয় সরকার তার নিজের পক্ষে বলতে গিয়ে প্রকল্পটিকে জোরালোভাবে সমর্থন করে, তারা যুক্তি দেয় যে এর “মহান জাতীয় গুরুত্ব” রয়েছে এবং এটি ভারতের সমুদ্র-নিরাপত্তা, ট্রান্সশিপমেন্ট বাণিজ্য ঘিরে উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আরক্ষাগত কৌশলের কারণে অপরিহার্য। রাহুলের সফরের পরে-পরেই, কেন্দ্রীয় সরকার দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছে যে জিএনআই প্রকল্পের লক্ষ্য দ্বীপটিকে একটি স্ট্র্যাটেজিক সামুদ্রিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তর করা, একই সঙ্গে তারা দাবি করে যে পরিবেশ সংক্রান্ত বিধিনিয়মও এখানে অনুসরণ করা হচ্ছে। কিন্তু এর কোনোটিতেই সমালোচকরা যেসব প্রশ্ন তুলেছেন সেসবের কোনো উত্তর নেই।

আরও অনেক উত্তরহীন প্রশ্ন রয়েছে। জিএনআই-তে আছে একটি নৌ বিমান ঘাঁটি আইএনএস বাজ (INS Baaz) এবং ক্যাম্পবেল বে-তে রয়েছে একটি প্রাকৃতিক বন্দর, যা মালাক্কা প্রণালীর মুখোমুখি। “বছরের পর বছর ধরে, এঅ্যান্ডএন (আন্দামান অ্যান্ড নিকোবর) কমান্ড’ রানওয়ে বাড়ানোর জন্য এবং বন্দরটিকে বড় বিমান ও জাহাজ ধারণের জন্য সংস্কার করার আবেদন জানিয়ে আসছে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি,” বলেছেন নৌবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ।

বছরের পর বছর, সুনামি ত্রাণ বস্তিতে বসবাসকারী নিকোবরীরা বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ভাবে তাদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যবিজড়িত জমিতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছে এবং প্রশাসন তাদের ফিরে যেতে সাহায্য করুক এই আর্জি জানাচ্ছে। এসব অনুরোধে আদৌ কোনো ফল হয়নি,” উল্লেখ করেছেন রমেশ।

একটি গর্তও খোঁড়া হয়নি, এরই মধ্যে প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২,০০০ কোটি টাকারও বেশি। যেহেতু সিমেন্ট ও ইস্পাত থেকে শুরু করে শ্রমিক ও কর্মী অবধি সবকিছুই ওই দ্বীপে নিয়ে যেতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে তাদের সেখানে থাকার ব্যবস্থা জোগাতে হবে, তাই প্রকল্পের ব্যয় আরও বহুগুণ বাড়বে নিশ্চিত। বর্ষা, সামুদ্রিক স্রোত ও ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি ইত্যাদি প্রাকৃতিক প্রভাব ওই ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

কাজে নামার আগে এ সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা কি কেন্দ্রের পক্ষে বুদ্ধিমানের কাজ হত না? নাকি মোদী সরকার ‘চার ধাম’-এর মতো এমন এক পদ্ধতি গ্রহণ করবে যে, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত ঝুঁকিকে শেষ মুহূর্তে পায়ে ঠেলে সরিয়ে দেওয়া হবে জাতীয় নিরাপত্তার ওজর তুলে— এমনকী সামরিক প্রসঙ্গগুলো আদপে মূল পরিকল্পনার অংশ না হওয়া সত্ত্বেও! কী হবে তা কেবল সময়ই বলতে পারে।

 

[মূল ইংরেজি রচনাটি Great Nicobar project: National ambition or costly misstep? নামে ডেকান হেরাল্ড -এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছিল, ১৭ মে ২০২৬ তারিখে। https://www.deccanherald.com/amp/story/specials/great-nicobar-project-national-ambition-or-costly-misstep-4005726]

ব্যবহৃত ছবি: রবিশংকর পি., Great Nicobar: A contemporary Conservation Timeline-এ প্রকাশিত


Sunday, May 9, 2021

ভ্যাকসিন: বিভ্রম আর দুর্ভাবনা

 


ভ্যাকসিন: বিভ্রম আর দুর্ভাবনা

কৌস্তুভ পান্ডা

 



সমগ্র মনুষ্যজাতিকে যতরকম সাধারণ শত্রুর সঙ্গে লড়তে হয়েছে, তার কোনওটাই কোভিড-১৯-এর সঙ্গে লড়াইয়ের মতো নয় সেসব লড়াইতে এমন অপ্রত্যাশিত মোচড় ছিল না, সে সব লড়াই কখনও এমন ধাঁধা লাগায়নি, সে সব লড়াই আমাদের ক্রমশ এমন হতাশ করে তোলেনিসে কারণেই, এই ভাইরাসটার বিরুদ্ধে আমরা কোন অস্ত্র ব্যবহার করব তার থেকেও বড় কথা হল আমাদের রণকৌশলটা কী হবে।

আজ অবধি আমরা এমন কোনও একক ওষুধ খুঁজে পাইনি, বা একক কোনো চিকিৎসা পদ্ধতিও বের করতে পারিনি যাতে ভাইরাসটাকে আমাদের শরীরের ভেতর মেরে ফেলা যায়। নিরাময়ের জন্য যতরকম হাতিয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে তার সমস্তই আদতে অন্য কোনও রোগের ওষুধ, সেগুলোই ঘুরিয়ে কাজে লাগানো হচ্ছে মাত্রএর অর্থ হল, সেগুলো ইতিমধ্যেই অন্য কোনও না কোনও রোগের চিকিৎসায় বা ভাইরাস দমনে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এই বিশেষ ভাইরাসটির বিরুদ্ধে তার কোনওটারই কার্যকারিতা আগে পরীক্ষা করে দেখা হয়নি, বা তার সাফল্য অবিসংবাদিত ভাবে প্রমাণ করা হয়নি। এ কথাটা আজ ক্রমশ বিবর্তিত নানা ভ্যারিয়েন্টগুলোর দিকে তাকিয়ে আরও বেশি করে সত্য বলে মনে হচ্ছে।

এই ভাইরাসের মোকাবিলার জন্য এরপর আর যে সম্ভাব্য পথটা পড়ে থাকে তা হল ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিন ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হল ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের শরীরে একটা দুর্গ গড়ে তোলা অর্থাৎ একটা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু এগুলো রোগ যখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তখন কাজে লাগার মতো কোনও ওষুধ নয়, তাই ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে এমন ভাবনা উদয় হওয়ার সময়েই সেটা  প্রয়োগ করা দরকার।

ফলে, অতিমারী যখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তখন জোরদার ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করা হল শত্রু এসে পড়ার পর দুর্গ গড়তে বসার সমান। এতে পরাজয় ঘটারই সমূহ সম্ভাবনা। কারণ ভাইরাসটা যখন সত্যি সত্যি আমাদের আক্রমণ করবে তখন আমাদের প্রতিরোধ হয়তো আধাখ্যাঁচড়া রকমে তৈরি হয়েছে বা একেবারেই হয়নি।  এই বিপদটা বিশেষ করে খুবই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে যখন দ্রুত মিউটেশনের মধ্য দিয়ে ভাইরাসটা তার চেহারা আর রোগলক্ষণের তীব্রতার মাত্রা  অবিরত বদলে বদলে ফেলেআমাদের শরীরের অনাক্রম্যতা শক্তিকে বা ইমিউনোলজিক্যাল ডিফেন্সকে তা বিভ্রান্ত করে দেয় এবং তাকে এড়িয়ে যায়কাজেই ভ্যাকসিন নেওয়া মানেই যে তা আমাদের শরীরে ইমিউনিটির অভ্রান্ত আশ্বাস, এ কথাটাকে নির্বিচারে গ্রহণ করা যাবে  না।

দেখেশুনে মনে হচ্ছে বহু মানুষই প্রথম এক ডোজ ভ্যাকসিন নিতেই  এমন একটা ভ্রান্ত মোহে ভুগছেন যেন অনাক্রম্যতার দাক্ষিণ্য পেয়ে গেছেনশারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা বা মুখোশ পরা, এর কোনোটাই তাঁদের কাছে আর জরুরি বলে ঠেকছে না। এতে আরও বেশি করে সংক্রমণ ছড়াবে এবং জনসমাজকে তা আরও বিপদে ফেলবে।

অনেকে বলছেন, কেবল মাত্র ভ্যাকসিন দেওয়ার মধ্য দিয়েই আমরা হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে পারব। এঁরা সম্ভবত দ্রুত মিউটেশনের সাহায্যে বদলে যেতে থাকা আর এন এ ভাইরাসের কার্যকলাপের চরিত্রটা ভালো করে জানেন না, আজকের নভেল করোনাভাইরাস  এ ধরনের ভাইরাসেরই এক নমুনা। আমরা যত দ্রুত ভ্যাকসিন বানাই না কেন, এরা তার থেকেও দ্রুত গতিতে বদলে গিয়ে তার চোখে ধুলো দিতে সক্ষমএর অর্থ হল, আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে হাসপাতালে বা নানা ক্লিনিকে ভ্যাকসিন নেবার জন্য দৌড়োদোড়ি করা, আর এমন এক বিশ্বাসে বুঁদ হয়ে থাকা যে এটা আমাকে রাতারাতি ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচার ক্ষমতা এনে দেবে, এটা মোটে বিবেচকের মতো কাজ নয়। এ কথাটা গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে ঠিক এই মুহূর্তে, যখন অজস্র সংক্রমিত মানুষ চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

মনে রাখা দরকার, এমনও ঘটতে পারে যে, কেউ কেউ হয়তো ভ্যাকসিন নিলেন কিন্তু উদ্দিষ্ট অনাক্রম্য ক্ষমতা তৈরি হল না, এমনকি দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার বহু মাস পরেও  না

সমস্ত ভ্যাকসিনই ব্যবহৃত হচ্ছে কেবল জরুরি ভিত্তিতে। দেশজোড়া নানা রকম ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে এগুলোর কোনটা কেমন কাজ করে   সে ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। কাজেই ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেই সম্পূর্ণ ইমিউনিটি পেয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা ঠিক হবে না। প্রকৃত ঘটনা হল, দু ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও বহু মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন।

আরও একটা কথা মনে রাখা দরকার, যারা একবার রোগে ভুগেছেন, তাদেরও আবার সংক্রমণ ঘটছে, কারণ আপাতদৃষ্টিতে প্রথমবার সংক্রমণের পরেও তাঁদের শরীরে স্বাভাবিক ইমিউনিটি তৈরি হয়নি। কাজেই স্বাভাবিক ইমিউনিটি বা ভ্যাকসিন নেওয়ার মধ্য দিয়ে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলার কাজটা আগে যতটা কঠিন ভাবা হয়েছিল তার থেকেও অনেক কঠিন, বিশেষ করে এই ঝড়ের বেগে মিউটেশন ঘটতে থাকা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে।

কাজেই সুরাহা পাওয়ার জন্য আপাতত সবথেকে সেরা কাজটা হল নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা এবং শরীরে ভাইরাস ঢুকলে তারপর তা বিনাশ করব এই ভাবনা ত্যাগ করা। কীভাবে এ কাজটা ঠিকঠাক করা সম্ভব সেটা বের করতেও হয়তো আমাদের এখনও বহুদিন লেগে যাবে।

ঠিকঠাক সুফল পেতে হলে কোনো জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিন দিতে হবে যখন সংক্রমণের হার থাকে খুবই কম। কেন? কারণ, প্রথমত, এই অবস্থায় ভাইরাসটা কিছুটা নিষ্ক্রিয় অবস্থায়  থাকে, ভ্যাকসিন যারা পাচ্ছে তারা সংক্রমিত থাকে না। দ্বিতীয় কারণ হল, ভ্যাকসিন নিতে গিয়েই সংক্রমিত হবার আশঙ্কা থাকে কম।

ভারতে সংক্রমণের মাত্রা খুব নীচে নেমে এসেছিল ২০২০র ডিসেম্বর নাগাদ এবং এ বছর মার্চের শেষ অবধিও ওরকম ছিল। তার অর্থ, ভ্যাকসিনের মাধ্যমে এই দ্বিতীয় ঢেউ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আমরা তিনটে মাস সময় পেয়েছিলাম। ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য আমাদের যে বিরাট পরিকাঠামো আছে, তা কাজে লাগিয়ে আমাদের জনসংখ্যার অধিকাংশকেই এই সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন দিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল।

ঠিক এই সময়টাতেই আমাদের অবেহেলার মুখে পড়তে হল। আমরা ৬ কোটি মানুষকে কেবল ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দিতে পেরেছি, যা আমাদের মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ মাত্র। আমাদের দেশের বিপুল জনসংখ্যার সাপেক্ষে এই সংখ্যাটা কিছুই নয়, ফলে সংক্রমণের বাড়াবাড়িও ঠেকানো যায়নি।

এটাও বোঝা গেল না কেন আমরা ভ্যাকসিন তৈরি আর ভ্যাকসিন সংগ্রহের দিকে নজর না দিয়ে ‘ভ্যাকসিন ডিপ্লোম্যাসি’র মোহে পড়লাম। ভারতে যখন এইসব প্রতিষেধকের জন্য হাহাকার চলেছে তখন ৬৬ মিলিয়ন ইউনিট ভ্যাকসিন পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্য দেশে। ফাইজার, মডার্না বা জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিনগুলো ব্যাপক ব্যবহৃত এবং আরও বেশি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো আমদানির কোনও চেষ্টা চোখে পড়েনি। আমাদের কোনো সুপরিকল্পিত ভ্যাকসিন প্রোগ্রামও গড়ে তোলা হয়নি, দ্বিতীয় ঢেউ আসার আগেই ভারতের অধিকাংশ মানুষকে সুরক্ষিত করার জন্য সেটা জরুরি ছিল।

ভ্যাকসিনের এই চলতি সংকট জনসাধারণের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে। এই সংকট আরও বাড়বে কারণ ১৮-৪৫ বছর বয়ঃসীমার জনসাধারণ, যারা আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ, তারা এখন ভ্যাকসিনের প্রত্যাশী। অথচ প্রথম ডোজ নেওয়ার পর যাঁরা দ্বিতীয় ডোজের প্রতীক্ষা করছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং তাঁদের মধ্যে থাকবেন স্বাস্থ্যকর্মী, গুরুত্বপূর্ণ গণপরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা, কো-মরবিডিটি যুক্ত জনসাধারণ এবং বয়স্ক নাগরিকরা। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যাপার, কারণ কেবল প্রথম ডোজ থেকে দ্রুত বাড়তে থাকা ভাইরাসের হাত থেকে যথেষ্ট প্রতিরক্ষা মেলে না। এবং ঠিক সময়মতো দ্বিতীয় ডোজটা না পেলে প্রাথমিক ভাবে যে স্বল্প মাত্রার অ্যান্টিবডি শরীরে তৈরি হয়েছিল তাও ক্রমশ হারিয়ে যেতে থাকবে। তা ছাড়াও শরীরে স্থায়ী ইমিউনোলজিক্যাল স্মৃতি তৈরি হওয়ার জন্য প্রথম ডোজের ফলে  কোষে যে ইমিউনিটি সূচিত হয়েছিল তার ওপরেও প্রভাব পড়বে। কাজেই ভাইরাসটাকে ভালোমতো নিষ্ক্রিয় করার জন্য আমাদের শরীরে ইমিউনিটির মাত্রাকে বাড়িয়ে তোলা আবশ্যক এবং তার উপায় হল দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন।

আরও কথা আছে। যে মানুষরা দ্বিতীয়  ডোজের ভ্যাকসিন পেলেন না, তাঁরা যদি সংক্রমিত হন, এবং বিশেষ করে দ্বিতীয় তরঙ্গে যে মারাত্মক চরিত্রের ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে তার দ্বারা সংক্রমিত হন, তাহলে ভাইরাসটা হয়তো নিরীহ ইমিউন প্রতিরক্ষার বেড়া কাটিয়ে এমন জোরালো এক ধরনের জন্ম দেবে যেটা আমাদের ইমিউন ব্যবস্থাকে এড়াতে আরও বেশি দক্ষ। সেটা যদি ঘটে, তাহলে ওরকম স্ট্রেনের মোকাবিলা করা কঠিন হবে এবং তার থেকেই দেখা দেবে নতুন আর একটা সংক্রমণ তরঙ্গ।

ভ্যাকসিন দেওয়া জরুরি, কিন্তু তা করতে গিয়ে সর্বত্র যখন এই ভাইরাস ছড়িয়ে রয়েছে তখন বেশি বেশি করে তরুণ-তরুণীদের বের করে আনলে তাদেরও এইসব নতুন ভয়ঙ্কর স্ট্রেনগুলোর সামনে ফেলে দেওয়া হবে। লোক জড়ো করে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজটা ভীষণ সাবধানে করা দরকার। যথেষ্ট ভ্যাকসিনের সরবরাহ রাখা দরকার এবং পারস্পরিক দূরত্ববিধি মেনে চলা দরকার। দুর্ভাগ্যবশত এর কোনওটার দিকেই দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে না।

আরেকটা জিনিস আমরা দেখেও দেখি না। আমাদের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টারা সরকারকে একটা অতি জরুরি কাজে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেটা হল অজস্র সংখ্যক মিউট্যান্ট এবং ভ্যারিয়েন্টের জিনোম সিকোয়েন্স বের করা। এ থেকে আমরা বুঝতে পারতাম ঠিক কত ধরনের ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট এই মুহূর্তে সক্রিয় আছে এবং একই সঙ্গে জানতে পারতাম  তাদের উৎস এবং তাদের রোগপ্রভাবের মাত্রা। তার ফলে রোগ সংক্রমণের সংযোগসূত্রগুলোর হদিশ আরও ভালোভাবে পাওয়া যেত। দুর্ভাগ্যবশত এ কাজটা যখন করা দরকার ছিল তখন আমরা তাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করিনি।

আজ আমরা জানি না ভাইরাসটার কতগুলো ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে এবং তাদের সংক্রমণ বা প্রাণনাশের ক্ষমতা কতদূর। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক মহল এ ব্যাপারে হয় চুপচাপ বসে আছে নয়তো ভাইরাসটা নিয়ে যেসব গবেষণা জরুরি তার উদ্যোগ নিতে বিলম্ব করে চলেছে। এ ধরনের গবেষণার ফলাফল হাতে না থাকলে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার পরিমাপ করা ভারি দুরূহ, এবং চলতি ভ্যাকসিন প্রকল্প থেকে আমাদের যা প্রত্যাশা তা মেটানোও ভারি কঠিন।

কাজেই ভ্যাকসিন দেওয়া হোক বা না হোক, এই অতিমারীর হাত থেকে রেহাই পাওয়ার একমাত্র উপায় ভাইরাসটা থেকে দূরে থাকা, কারণ আমরা যত এটার মুখোমুখি হব বা এটাকে শরীরে ডেকে আনব, তত আমরা অমূল্য প্রাণ হারাব এবং সেই সঙ্গে এটাকে আরও বেশি করে মিউটেটেড হওয়ার সুযোগ দেব। বলা বাহুল্য সেটা সামলানো তখন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। অতএব আমাদের ঘরের ভেতরেই থাকতে হবে, নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হবে, বাইরের কিছুর সঙ্গে সংস্পর্শ ঘটলেই বীজাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে। আমরা সকলেই বাঁচব, না সদলে নিশ্চিহ্ন হব জানি না, কিন্তু সমস্ত নাগরিক যতক্ষণ না এই অভ্যাস রপ্ত করছেন এবং এই নির্দেশগুলো মেনে চলছেন, এর হাত থেকে মুক্তি নেই। নান্য পন্থা।

অনুবাদ: যুধাজিৎ দাশগুপ্ত


রচনাটি Shot in the dark শিরোনামে The Telegraph Online পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে ৯ মে ২০২১ তারিখে।

কৌস্তুভ পান্ডা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গুহ সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের জীবরসায়নবিদ্যার অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

  ভাষার মৃত্যু ঘটে চোখের পলকে পেগি মোহন তখন ১৯৭৮ সাল। আমি সে সময়ে ত্রিনিদাদ ভোজপুরি ভাষা নিয়ে একটা গবেষণা প্রকল্পে হাত দিয়েছিলাম। ত্রিনিদা...